Posts

Showing posts with the label সংস্কৃতি

‘সাগুদানা’ একাদশীতে খাবেন? না খাবেন না?

Image
সাবুদানা ভারতে এত বিশুদ্ধ বলে মনে করা হয় যে, মানুষ উপবাসে এটি একটি ফল হিসেবে খায়। এটা দিয়ে খিচরি, খির, পাপড়, পুডিংসহ অন্যান্য অনেক খাবার তৈরি করা হয়, যা মানুষ খুব উৎসাহের সাথে খায়। অনেকেই জানেন না যে অনেক উপকারে ভরপুর এই সাবুদানা শেষ পর্যন্ত কিভাবে তৈরি হয়। কিছু লোক মনে করে যে এটি এক ধরণের শস্য, যদিও এটি মোটেও নয়। আসুন, আজ আমরা সাগু সম্পর্কে আপনার যা যা জানা দরকার তা বলব:    সাবুদানা, যাকে অধিকাংশ মানুষ শস্য বলে মনে করে, এটি শস্য নয় বরং একটি বিশেষ ধরনের গাছের কাণ্ড থেকে তৈরি খাদ্যসামগ্রী । সাগো মূলত পূর্ব আফ্রিকায় পাওয়া সাগো পাম নামে একটি গাছের কাণ্ডের সজ্জা থেকে প্রস্তুত করা হয়। এই গাছের মোটা কাণ্ডের মাঝের অংশটি গুঁড়ো করতে পিষে নেওয়া হয়। এর পরে, এই পাউডারটি ফিল্টার করে গরম করা হয় যাতে এর দানা তৈরি হয়। যে কাঁচামাল থেকে সাগু তৈরি করা হয় তাকে ট্যাপিওকা রুট বলে। এটি কাসাভা নামেও পরিচিত।

আসুন সনাতন ঐতিহ্যে জন্মদিন পালন করি, পাশ্চত্য ট্রাডিশনকে বয়কট করি।

Image
হিন্দু ঐতিহ্যবাহী পরিবারগুলোতে ঐতিহ্য ছিল, জন্মদিনে গুরুজনেরা মাথায় ধানদূর্বা দিয়ে আশীর্বাদ করবে, মিষ্টান্ন তৈরি করা হবে ইত্যাদি। এদেশীয় সংস্কার অনুসারে দূর্বাকে অমর বলা হয়। কারণ, দূর্বা যেখানেই পরে সেখান থেকেই নতুনভাবে বংশবৃদ্ধি ঘটায়। এ কারণে জীবনে শতবছর পূর্ণায়ুর জন্যে দূর্বা দিয়ে আশীর্বাদ করা হয়। ধান সমৃদ্ধি এবং অন্নের প্রতীক, তাই আশীর্বাদ করতে দূর্বাঘাসের সাথে মাথায় ধান দেয়া হয় সমৃদ্ধি এবং পূর্ণায়ুর কামনা করে। জন্মদিনে, যার জন্মদিন তার কল্যাণ কামনা করে দেবতাদের ভোগ নিবেদন করা করা হয়, দুধের মিষ্টান্ন তৈরি করে দেয়া হয়। আমাদের স্মৃতিশাস্ত্রে জন্মদিনের কৃত্যাদি বর্ণনা করা আছে। সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, কিভাবে জন্মদিন পালন করতে হবে। দীর্ঘায়ু কামনায় অথর্ববেদে অত্যন্ত সুন্দর একটি প্রার্থনা  রয়েছে।

জীবের খাদ্য এবং খাদ্যাভ্যাস

Image
ঈশ্বরই সকল প্রাণীর জঠরে, অবস্থান করে খাদ্য পরিপাক করেন। যা খেয়ে প্রত্যেকটি জীব বেঁচে থাকে তাকেই অন্ন বলে।অন্নতেই সকল জীব বেঁচে থাকে। তাই মনুষ্যের স্থুল দেহকে অন্নময় কোষ বলা হয়।বর্তমানে অন্ন বলতে শুধু ভাতকেই বোঝানো হয়। কিন্তু বেদান্তে অন্ন বলতে চার প্রকার খাদ্যের কথা বলে হয়েছে। মনুষ্যসহ অধিকাংশ প্রাণীই মূলত এ চার প্রকারের খাদ্যই গ্রহণ করে। শ্রীমদভগবদগীতার পঞ্চদশ অধ্যায়ের চারপ্রকার অন্নের কথা বলা হয়েছে: অহং বৈশ্বানরো ভূত্বা প্রাণিনাং দেহমাশ্রিতঃ। প্রাণাপানসমাযুক্তঃ পচাম্যন্নং চতুর্বিধম্।। "আমিই প্রাণিগণের উদরে বৈশ্বানর অগ্নিরূপে স্থিত হয়ে প্রাণ ও অপান বায়ুর সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে চর্ব্য, চোষ্য, লেহ্য, এবং পেয় এ চতুর্বিধ অন্নকে পরিপাক করি।" ১.চর্ব্য- যা চিবিয়ে চিবিয়ে খাওয়া হয়; ভাত, রুটি সহ অধিকাংশ খাবার। ২.চোষ্য - যা চুষে চুষে খেতে হয়; শিশু এবং বৃদ্ধদের উপযোগী বিভিন্ন খাবার। ৩.লেহ্য- যা চেটে চেটে খেতে হয়; চাটনি জাতীয় বিভিন্ন খাবার। ৪.পেয়- যা পান করা হয়; দুধ, জল, চা ইত্যাদি।

নারায়ণগঞ্জে কাটানো প্রথম কোরবানীর ঈদ

Image
১৭৬৬ সালে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতা বিকন লাল পান্ডে, যিনি বেণুর ঠাকুর বা লক্ষী নারায়ণ ঠাকুর নামে অধিক পরিচিত ছিলেন। তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিকট থেকে এ অঞ্চলের মালিকানা কিনে নিয়েছিলেন। তিনি প্রভু নারায়ণের সেবার ব্যয়ভার বহনের জন্য একটি উইলের মাধ্যমে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে অবস্থিত মার্কেটকে দেবোত্তর সম্পতি হিসেবে ঘোষণা করেন। তাই পরবর্তীকালে এ স্থানের নাম হয় নারায়ণগঞ্জ। কালেক্টরেটের প্রারম্ভিক দলিল-দস্তাবেজে নারায়ণগঞ্জের নাম উল্লেখ পাওয়া যায়। সূত্র: উইকিপিডিয়া 

নমস্কার কেন করা হয়?

Image
'নমস্কার' একটি বৈদিক সম্ভাষণ..... ' নমস্কার ' প্রসঙ্গে আজ আমার একটি ব্যক্তিগত স্মৃতি মনে পড়ছে। কয়েকবছর পূর্বে, সালটি ২০১৪ হবে। আমাদের চট্টগ্রামের এক অত্যন্ত সুপরিচিত দাদার সাথে আন্দরকিল্লা মোড়ে কথা বলছিলাম। তিনি চট্টগ্রামের বিভিন্ন ধর্মসভায় বক্তব্য প্রদান করেন। আমি সেই দাদার সাথে প্রায় ঘন্টাখানেক ছিলাম। সেই দাদাটি একজন ব্যস্ত মানুষ। কিছুক্ষণ পরপরেই তার মোবাইলে কল আসছিল। তিনি মোবাইলে কথা বলছিলেন। বুঝতে পারলাম যে, অধিকাংশ কলই বিভিন্ন ধর্মসভায় অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ। তবে মোবাইলে তার কথা বলার সময়ে একটি বিষয় লক্ষ্য করলাম যে, তিনি কারো সাথে কথা বলার সময় 'হরেকৃষ্ণ' বলে শুরু করছিলেন, অথবা মোবাইলের অপরপক্ষ থেকে হরেকৃষ্ণের উত্তরে তিনিও হরেকৃষ্ণ বলছিলেন। বুঝতে পারলাম যে মোবাইলের অপরপ্রান্তের ব্যক্তি গৌড়ীয় বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের ।  তেমনিভাবে কারো সাথে 'জয় রাম' বলে সম্বোধন করছিলেন। সেই ব্যক্তিরা হয়ত চট্টগ্রাম কৈবল্যধাম আশ্রমের রাম ঠাকুরের শিষ্য হবে। জয় রাম বলতে তারা ভগবান শ্রীরামচন্দ্রকে নয়, তারা রাম ঠাকুরকে বোঝায়। আবার কারো সাথে 'জয় গুরু' বলে সম্বোধন করছিলেন। তা...

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের, প্রবন্ধে সেকালের বাবুচরিত্র

Image
বাঙালি হিন্দু ভদ্রলোক বোঝাতে বর্তমানে 'বাবু' শব্দটি বহুল প্রচারিত। বর্তমানে অনেক নব্য ধনী ব্যক্তিরা আছেন, তাদের নামের সাথে যদি বাবু শব্দটি ব্যবহৃত না হয়, তারা ভয়ংকর ক্ষুব্ধ হয়ে যান। এই ভূখণ্ডের শাশ্বত সংস্কৃতির চিহ্ন হিসেবে নামের সাথে প্রাচীনকাল থেকেই লক্ষ্মী, সমৃদ্ধি এবং সৌন্দর্যবাচক 'শ্রী' শব্দটি ব্যবহৃত। কিন্তু সেই শ্রী শব্দটিকে পাশ কাটিয়ে কেন এবং কিভাবে বাবু শব্দটি বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠলো, এ বিষয়টি অত্যন্ত রহস্যজনক। বাবু শব্দটি সম্ভবত তুর্কি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে। শব্দটি এ দেশীয় হিন্দু সংস্কৃতির সাথে যুক্ত নয়। এরপরেও বাঙালি হিন্দু ভদ্রলোক বা সম্মানিত ব্যাক্তি, হিন্দু পরিবারের কর্তা বা বয়স্ক পুরুষদের ক্ষেত্রে শব্দটি ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বর্তমানে শব্দটি তার পূর্বের অর্থ ছাপিয়ে প্রেমিক-প্রেমিকা বা স্বামী-স্ত্রীর একে অন্যের প্রেমপূর্ণ সম্বোধনবাচক শব্দে রূপান্তরিত হয়েছে। এবং সেই প্রেমপূর্ণ সম্বোধনবাচক শব্দে রূপান্তরিত হয়ে শব্দটি বর্তমানে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে গেছে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণী এবং যুবক- যুবতীদের মাঝে। তবে সবথেকে মজার ব্যাপার হল, ...

ভাইভোঁটার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা ও উৎপত্তি ইতিহাস

Image
ভাইফোঁটা বাঙালির জীবনের অন্যতম বড় উৎসবমুখর আবেগঘন পার্বণ । ভাইফোঁটার শাস্ত্রীয় নাম ভ্রাতৃদ্বিতীয়া বা যমদ্বিতীয়া । সাধারণত কালীপূজার দুইদিন পরে কার্তিক মাসের শুক্লদ্বিতীয়া তিথিতে ভাইবোনের এ পবিত্র সম্পর্কের উৎসবটি অনুষ্ঠিত হ্য় । তবে বাংলাদেশের বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলীয় অনেক স্থানেই শুক্লপক্ষের প্রতিপদ তিথিতে ভাইফোঁটা অনুষ্ঠিত হয় । "ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়ল কাটা   যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা আমি দেই আমার ভাইকে ফোঁটা।।                                              

মস্তকে শিখা ধারণ করব কেন?

Image
— জ্ঞানাগ্নি শিখাই হইল আসল শিখা। অর্থাৎ আমাকে আত্মজ্ঞান, তত্ত্বজ্ঞান বা ব্রহ্মজ্ঞান এই জীবনেই লাভ করিতে হইবে — ইহা স্মরণ রাখিবার জন্যই আমাদের শিখা ধারণ করা। তাই এখানে শিখা সম্পর্কিত বিশেষত শাস্ত্র প্রমাণ উল্লেখ করা হল। সর্বাপেক্ষা প্রাচীন বৈদিক সংস্কৃতির অন্তর্গত দশবিধ সংস্কারের অন্যতম হলো চূড়াকরণ বা শিখাধারণ। বৈদিক সংস্কৃতি অনুসারে, চূড়াকরণ ও উপনয়ন তথা দীক্ষাকালে মস্তক মুণ্ডন মস্তক এর পেছন দিকে মধ্যভাগে একগুচ্ছ কেশ রাখতে হয়। এই কেশগুচ্ছকে বলা হয় শিখা। আবার, ভগবৎ-চেতনা দান করে বলে একে চৈতন্য বলা হয়। গৌড়ীয় বৈষ্ণব অভিধানে শ্রীধর স্বামী ব্যাখ্যা করেছেন, শিখা হচ্ছে মস্তক মধ্যস্থ কেশপাশ। বৈদিক সংস্কৃতির অঙ্গ হওয়া সত্ত্বেও কলিযুগের প্রভাবে অপসংস্কৃতি চর্চায় উৎসুক মনুষ্য আজ এসম্পর্কে কোন ধারণাই রাখে না। সেকারণে শাস্ত্রজ্ঞানের অভাবে তথা অজ্ঞতাহেতু একে টিকি-এন্টেনা বলে কাউকে উপহাস করতে দেখা যায়। আবার কেউ কেউ মনে করে থাকেন এটি অশাস্ত্রীয়। বেদ: শিখিভ্যঃ স্বাহা। অর্থাৎ, শিখাধারীদের কল্যাণ হোক। অথর্ববেদ (১৯.২২.১৫) অতএব, বৈদিক শাস্ত্রে বহু প্রমাণ থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মাণ হয় যে, পরশ্রীকা...

উপবীত বা পৈতার মাহাত্ম্য , উপবীত বা পৈতা কাহাকে বলে?

Image
         যাহা তিনটি দণ্ডে গ্রথিত ও নয়টি সূত্রের সমাহার   তাহাকে উপবীত বা পৈতা বলা হয় । ইহা ব্রাহ্মণদের পবিত্র চিহ্ন । পৈতার এই নয়টি সূত্র নয়টি গুণের প্রতীকস্বরূপ । এই নব গুণাবলী নিম্নরূপ :  ( ১ ) আচার ( সদাচার )          ( ২ ) বিনয়        ( ৩ ) বিদ্যা           ( ৪ ) শম          ( ৫ ) দম         ( ৬ ) তপস্যা       ( ৭ ) ক্ষমা        ( ৮ ) শৌচ ও      ( ৯ ) অহিংসা ।