Posts

অনন্তলোকে যাত্রা করলেন স্যার অসিতবরণ ঘোষ।

Image
অনন্তলোকে যাত্রা করলেন স্যার অসিতবরণ ঘোষ। আমরা হারালাম একজন গুণী মানুষকে। অসিতবরণ ঘোষের জন্ম ১৯৩৬ সালে, যশোর শহরের বাগমারা পাড়ায়। তিনি ১৯৫৩ সালে যশোরের সম্মিলনী ইনস্টিটিউশন থেকে ম্যাট্রিকুলেশন, খুলনার ব্রজলাল কলেজ থেকে আইএসসি এবং যশোরের মাইকেল মধুসূদন কলেজ থেকে ১৯৫৭ সালে কৃতিত্বের সাথে স্নাতক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। কঠিন ব্যাধি ও আর্থিক সংকটের কারণে স্নাতকোত্তর পাঠে ছেদ ঘটিয়ে তিনি ১৯৫৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তার নিজের স্কুলেই শিক্ষকতায় যোগ দেন। তিন বছর শিক্ষকতার পর তিনি ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। দেশের বিভিন্ন কলেজে শিক্ষকতার পর সব শেষে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে তিনি ১৯৯৩ সালে অবসরগ্রহণ করেন। শিক্ষকতা জীবনের একেবারে শুরু থেকেই তিনি ছাত্রদের সাংস্কৃতিক চেতনা এবং মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধের বিকাশে একজন নিরলসকর্মী হিসেবে কাজ করে চলেছেন।  আমাদের দেশে শিশুশিক্ষায় প্রবহমান নৈরাশ্য ও নৈরাজ্য নিরসনে তিনি বিগত দুই যুগ ধরে নানাবিধ কর্মযজ্ঞের আয়োজন ও উদযাপন করে আসছেন। এতদুদ্দেশ্যে তিনিই প্রথম বিশ্বনন্দিত শিশুশিক্ষাবিদ মারিয়া মন্তেসরি প...

স্যাপিওসেক্সুয়াল কি?

স্যাপিওসেক্সুয়াল মানুষ যখন কারও প্রেমে পড়ে তখন খুব স্বাভাবিকভাবেই সে চেহারা, বাহ্যিক সৌন্দর্য ইত্যাদি দেখেই প্রেমে পড়ে। কিন্তু এমন কিছু মানুষও রয়েছেন যারা চেহারা কিংবা শারীরিক সৌন্দর্য নয়, শুধু বুদ্ধিমত্তা দেখেই প্রেমে পড়েন। বিজ্ঞানের ভাষায় একেই বলা হয় ‘স্যাপিওসেক্সুয়াল’। স্যাপিওসেক্সুয়ালদের প্রেম ও যৌনতার অনুভূতি আবর্তিত হয় মস্তিষ্ককে ঘিরে। শারীরিক সৌন্দর্য বা সামাজিক অবস্থানের চেয়ে তাদের কাছে অনেক বড় হয়ে দাঁড়ায় উল্টোদিকের মানুষটির বুদ্ধিমত্তা। অপরদিকের মানুষটির গভীর চিন্তাশক্তি, কৌতূহলী মনোভাব, প্রচলিত ব্যবস্থাকে প্রশ্ন করার মানসিকতা তাদের প্রচণ্ড আকৃষ্ট করে। মনস্তাত্ত্বিক, রাজনৈতিক, দার্শনিক আলোচনা থেকে তারা রসদ সংগ্রহ করেন। এরা মনে করেন কারো যৌন আকর্ষণ শরীরে নয়, বরং তার মেধায় লুকিয়ে থাকে। আপনিও কি এমন? মিলিয়ে নিন। স্যাপিওসেক্সুয়ালেরা কখনোই হুটহাট প্রেমে পড়েন না। যেহেতু শারীরিক সৌন্দর্য তাদের টানে না, তাই প্রেমে পড়তে তাদের সময় লাগে। ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আগে বন্ধুত্ব হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানসিক ও বৌদ্ধিক সংযোগ হলে তবেই আসে প্রেমের প্রশ্ন। মেধা বা বুদ্ধির আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি হল...

স্বাধীনতা যুদ্ধে অশ্বিনী কুমার দত্ত এর আত্মত্যাগ।

Image
যে হিন্দু মহল্লাটায় ঢুকেছি, এখানকার সবগুলো বাড়িতে যাওয়ার সুযোগ পেলাম না। সন্ধ্যার পর কেউ আর দরজা-ই খুলতে চাইছে না। বিদ্যুৎ সংযোগবিহীন হি ন্দু এলাকায়, গভীর অন্ধকার নেমে এলো। অনেকের বাড়িতেই বাতি নেই। হয়তো অনেকেরই কেরোসিন কেনার মতো পয়সা নেই।   আমি আশাবাদী ছিলাম - হিন্দু মহল্লায় কেউ না কেউ তাদের বাড়িতে হয়তো আমাকে রাতে থাকতে দেবে। কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য! নানা অজুহাতে প্রত‍্যেকেই আমাকে ফিরিয়ে দিলো। একজন এমন কথাও বললো, "টাহা ধরাইয়া দিয়া ঘরে আইয়া ওডবেন, আর রাইতে মোগো খুন হরবেন! লাগবে না আপনার টাহা, লইয়া যান..." যে পথ ধরে এসেছি, সেই পথ ধরে ট্রলার ঘাটের দিকে ফিরতে লাগলাম। ট্রলারে বাসস্ট্যান্ড যাব। তারপর বাস-রিক্সা যা পাই, তাতে চেপে উপজেলা সদরে গিয়ে আবাসিক হোটেল খুঁজবো। ট্রলার ঘাটে গিয়ে শুনি, জ্যোৎস্না রাত হলে মাঝে মাঝে দু'-একটা ট্রলার ছাড়ে; এই অন্ধকার রাতে কোন ট্রলার ছাড়বে না, আরও দিনকাল ভালো না। আমি স্থানীয় নই শুনে এক লোক বলে, "এই জাগাডা কোলম সাংঘাতিক খারাপ..." পাশ থেকে এক যুবক বলে, "ভাই, মোগো বাড়থে(বাড়িতে) ল'ন..."। যুবকের মুখে হালকা দাড়ি, গোঁফ...

মহান মুক্তিযুদ্ধে হিন্দুদের অবদান

Image
মহান মুক্তিযুদ্ধে হিন্দুদের অবদান ও ত্যাগ পৃথিবীর আর ১০ টা দেশের চেয়ে আলাদা। প্রথমদিকে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী কেবল হিন্দুদের বাড়ীতে হামলা চালায়। সাম্পদায়িক এই কাজে সহায়তা কারে  মুসলিম জনগোষ্ঠী। যাদের রাজাকার নামে অভিহিত করা হয়।  " সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে সার্থক জনম মাগো তোমায় ভালবেসে। " রবী ঠাকুরের এই দুটি পঙক্তি কোনো বাঙালি শোনেনি এটি প্রায় একটি অভূতপূর্ব ব্যাপার। কালে কালে এই বঙ্গভূমির ভূমিপুত্ররা দেশমাতৃকাকে দেবীরূপে পূজা করে তার তরে এভাবেই অর্ঘ্য নিবেদন করে গেছে নিরন্তর। বিশ্বের একমাত্র ধর্মীয় গোষ্ঠী শাশ্বত সনাতন সংস্কৃতির ধারক ও বাহকের পক্ষেই কেবল দেশকে মাতৃস্থানে আসীন করার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বিশ্বের নিকট। " নানান দেশের নানান ভাষা বিনা স্বদেশী ভাষা মিটে কি আশা! " - রামনিধি গুপ্ত হ্যাঁ, মাতৃভাষা। যা সে ভূমির সন্তানদের কাছে অমৃতসম। ১৯৪৭ সালে যখন ভারত খন্ড হয়ে পাকিস্তান সৃষ্টি হলো তখনই বাঙালির সংস্কৃতি ও ভাষা অস্তিত্ব সংকটের সম্মুখীন হয়। সেই সংকট নিবারণের জন্য প্রথম যে বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর উচ্চারিত হয় সে এই পূণ্যভূমির ভূমিপুত্র বীর শ্রী ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত...

মুসলিম দেশ কাতার এখন দেশটির দ্বিতীয় সংখ্যা গরিষ্ট হিন্দু ধর্মালম্বী জনসংখ্যার দেশ।

Image
কাতারে  হিন্দু জনসংখ্যা বেড়েছে। সনাতন ধর্মালম্বীদের সংখ্যা ভারতীয় উপমহাদেশে জ্যামিতিক হারে কমেছে আর মুসলিম জনসংখ্যা গাণিতিক হারে বাড়ছে। অথচ মুসলিম অধ্যুষিত মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে বেড়েছে হিন্দু জনসংখ্যা। দেশটিতে হিন্দু জনসংখ্যা এখন দ্বিতীয় সংখ্যা গরিষ্ট দেশ। পারস্য উপসাগরের তীরবর্তী একটি মুসলিম প্রধান দেশ কাতার। দেশটি আরব উপদ্বীপের পূর্ব উপকূল থেকে উত্তর দিকে প্রসারিত কাতার উপদ্বীপে অবস্থিত। কাতারের দক্ষিণে সৌদি আরব, এবং পশ্চিমে দ্বীপরাষ্ট্র বাহরাইন অবস্থিত। অন্যান্য আরব দেশের মতো কাতারের আবহাওয়া উষ্ণ ও শুষ্ক। প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ তেলের বড় মজুদ রয়েছে কাতারে। প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে দেশটির অর্থনীতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং দেশটি বিশ্বের শীর্ষ ধনী দেশগুলোর একটি।  ঊনবিংশ শতকের শেষভাগ থেকে আল-থানি গোত্রের লোকেরা এই অঞ্চলটিকে একটি আমিরাত হিসেবে শাসন করে আসছে। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে দেশটি ব্রিটিশ শাসনের অধীনে আসে। এরপর ১৯৭১ সালে কাতার পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে। ২০১৭ সাল পর্যন্ত কাতারের মোট জনসংখ্যা ২৬ লক্ষ ৪১ হাজার ৬৬৯ জন। কাতারের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১৪ শতাংশ কাতারের বাসিন্দা। আর বা...

চুম্বন কত প্রকার? 'কামসূত্রম্' অনুসারে, চুম্বন আটপ্রকার।

Image
চুম্বন কত প্রকার? 'কামসূত্রম্' অনুসারে, চুম্বন আটপ্রকার। ধর্ম, অর্থ, কাম এবং মোক্ষ এ চতুর্বর্গের উপরে জগত সংসার প্রতিষ্ঠিত। এ চতুর্বর্গের একটি অপরিহার্য বর্গ হল 'কাম'। এ কাম থেকেই প্রজাধারা অবিছিন্নভাবে বহমান ।  কামতত্ত্বের উপরে শাস্ত্রীয় প্রধান গ্রন্থ হল 'কামসূত্রম্'। এ বিশ্ববিশ্রুত সূত্রগ্রন্থটি বাৎস্যায়নের রচিত।এ গ্রন্থে কামতত্ত্বের সকল বিষয়ই সুবিস্তারে আলোচিত হয়েছে। এই  'কামসূত্রম্' গ্রন্থের যষ্ঠ অধিকরণের তৃতীয় অধ্যায়ে চুম্বন সম্পর্কে কোন প্রকারের রাখঢাক না রেখে বিস্তৃতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।  তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতী, প্রেমিক-প্রেমিকা এবং পতি-পত্নীর পরস্পরের হৃদয়ে অত্যন্ত সুখানুভূতি আনে 'চুম্বন। এ চুম্বনে তাদের মাঝে ভালবাসার বৃদ্ধি ঘটে এবং মানসিক অবসাদ দূরীভূত হয়। সম্ভোগের অব্যবহিত পূর্বে অনুষ্ঠিত চুম্বন সম্ভোগকে অত্যন্ত আনন্দঘন করে তােলে।  তাই কামশাস্ত্রে চুম্বনকে আনন্দানুভূতির মুখ্যদ্বার' বলা হয়েছে। ভালবাসলে ভালবাসার মানুষের দেহের প্রতি অধিকার জন্মায়। সেই অধিকার ভালবাসাকে সুতীব্র করে, পূর্ণ করে।প্রেমকে দৃঢ় বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত করতে এবং ...

অগ্নিকন্যা বিপ্লবী কল্পনা দত্ত কে ছিলেন?

Image
অগ্নিকন্যা বিপ্লবী কল্পনা দত্তের প্রয়াণ দিবসে বিনম্র শ্রদ্ধা ০৮ ফেব্রুয়ারী ১৯৯৫। কল্পনা দত্ত ১৯১৩ একজন বিপ্লবী। ১৯১৩ সালের ২৭ জুলাই চট্টগ্রাম জেলার শ্রীপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। ১৯২৯ সালে চট্টগ্রাম থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর কল্পনা কলকাতার বেথুন কলেজে যোগদান করেন। শহীদ ক্ষুদিরাম এবং বিপ্লবী কানাইলাল দত্তের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি বেথুন কলেজ-এ গড়ে ওঠা ছাত্রী সংঘ-এ যোগদান করেন। পূর্ণেন্দু দস্তিদারের মাধ্যমে তিনি মাস্টার দা সূর্য সেনের সাথে পরিচিত হন এবং মাস্টার দা প্রতিষ্ঠিত ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি, চট্টগ্রাম শাখা-য় যোগদান করেন। তার বিপ্লবী মনভাবের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে 'অগ্নিকন্যা' বলেছেন।  বারো বছর বয়সে ক্ষুদিরাম ও কানাইলাল দত্ত-এর বিপ্লবী কর্মকান্ড স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগদানে তাঁকে আগ্রহী করে তোলে এবং তিনি ছাত্রী সংঘ-এ যোগদান করেন। পরবর্তী সময়ে পূর্ণেন্দু দস্তিদার তাঁকে মাস্টারদা সূর্যসেন পরিচালিত বিপ্লবী গোষ্ঠীতে যোগদানে আগ্রহী করে তোলেন।  ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল ‘চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন’ ঘটনার পর কল্পনা চট্টগ্রামে ফিরে আসেন এবং ১৯৩১ সালের মে মা...